যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যদি কোনো চুক্তি না হয় তাহলে আবারও বোমা হামলা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তারাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
আগামী সপ্তাহে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যদি কোনো চুক্তি না হয় তবে তিনি কী করবেন, এই প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না। ... তবে হয়তো আমি এর মেয়াদ বাড়াব না, ফলে একটি অবরোধ তৈরি হবে এবং দুর্ভাগ্যবশত আমাদের আবার বোমা ফেলা শুরু করতে হবে।’
কিন্তু ওয়াশিংটনগামী এয়ারফোর্স ওয়ানে তার সঙ্গে থাকা সাংবাদিকদের তিনি এও বলেছেন, একটি চুক্তি ‘হবেই’।
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো বিধিনিষেধ বা টোল আরোপের ধারণাকে তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ইরান জানায়, তারা বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণরূপে খুলে দিয়েছে। কিন্তু শনিবারও প্রশ্ন থেকে গেছে যে, জাহাজগুলো আসলে এই জলপথ দিয়ে কতটা অবাধে চলাচল করতে পারবে। কারণ তেহরান এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি জাহাজ ও বন্দরের ওপর অবরোধ বহাল রাখে তবে প্রণালীটি পুনরায় বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের পথ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের শুক্রবারের ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন লেবাননে ইসরায়েল এবং ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ জঙ্গি গোষ্ঠীর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিসহ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে না আসা পর্যন্ত অবরোধ ‘পূর্ণ বলবৎ থাকবে’।
এর আগে ট্রাম্প ইরানের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন যে, প্রণালীটি ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এবং পূর্ণ চলাচলের জন্য প্রস্তুত’। কিন্তু কয়েক মিনিট পরেই তিনি আরেকটি পোস্ট দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর অবরোধ অব্যাহত থাকবে ‘যতক্ষণ না ইরানের সঙ্গে আমাদের লেনদেন শতভাগ সম্পন্ন হচ্ছে’।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্সে এক পোস্টে বলেন, জাহাজগুলো ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র কর্তৃক নির্ধারিত পথ ব্যবহার করবে। এ থেকে বোঝা যায়, ইরান প্রণালীটির কিছুটা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পরিকল্পনা করছে। জাহাজগুলোকে টোল দিতে হবে কিনা তা স্পষ্ট ছিল না।
ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, এই অবরোধ ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোরে ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক্সে পোস্ট করেছেন, এই অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালী ‘খোলা থাকবে না’।
ডেটা সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, প্রণালীটি দিয়ে চলাচল ইরানের অনুমোদন সাপেক্ষে করিডোরেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত ১৩ এপ্রিল অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাহিনী ২১টি জাহাজ ইরানে ফেরত পাঠিয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে
সোমবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দ্বিতীয় দফার আলোচনা